AnuTrickz
QUESTION or DOUBT ? You can Ask Questions and Receive Answers from other members of the community
Ask Me

Join Us





সিন্ধু সভ্যতা শর্ট নোট || Indus valley Civilization Short Note In Bengali

সিন্ধু সভ্যতা শর্ট নোট || Indus valley Civilization Short Note In Bengali

সিন্ধু সভ্যতা শর্ট নোট || Indus valley Civilization Short Note In Bengali
     
সিন্ধু সভ্যতা শর্ট নোট || Indus valley Civilization short Note In Bengali

সিন্ধু সভ্যতা 


কোনাে কোনাে ঐতিহাসিকের মতে সিন্ধু সভ্যতা ছিল তা যুগের সভ্যতা অবার কোনাে কোনাে ঐতিহাসিকের মতে এই সভ্যতা ছিল ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা । মেসােপটেমিয়া ও মিশরের চেয়েও বড়াে ছিল এই সিন্ধু সভ্যতা । এটি বিস্তৃত ছিল ১৩ লক্ষ বর্গ কিলােমিটার । এই সভ্যতায় ২৫০ টি কেন্দ্র আবিষ্কৃত হয়েছে এবং ২৮০০ টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে । হরপ্পা ও মহেঞ্জোদরাে শহর দুটি সিন্ধু অববাহিকায় অবস্থিত বলে প্রথম দিকে এই সভ্যতাকে ‘সিন্ধু সভ্যতা’ বলা হত । কিন্তু পরে সিন্ধু উপত্যকার বাইরে নানা স্থান থেকে এই সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হওয়ায় এই সভ্যতার ব্যাপক বিস্তৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এখন একে আর | ‘সিন্ধু সভ্যতা’ না বলে প্রথম আবিষ্কৃত কেন্দ্র হরপ্পার নাম অনুসারে একে ‘হরপ্পা সভ্যতা’ বলা হয় । এছাড়া মহেঞ্জোদরাের তুলনায় হরপ্পায় অধিকতর । গ্রামীণ প্রত্নসামগ্রী আবিষ্কৃত হয়েছে এবং মহেঞ্জোদরাের চেয়ে তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ । এইসব কারণে প্রত্নতত্ত্ববিদগণের কাছে এই সভ্যতা ‘হরপ্পা সভ্যতা’ নামে পরিচিত হয়েছে ।


সময়কাল: জন মার্শালের মতে সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল হল ৩২৫০ থেকে ২৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ । সিন্ধু সভ্যতায় প্রাপ্ত শিলমােহর থেকে অনুমান করা হয় সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল হল ২৩৫০ থেকে ১৭৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ । অধিকাংশ ঐতিহাসিকরা মনে করেন সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত সময়সীমা হল ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ । ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ওয়াল্টার ফায়ার সার্ভিস কোয়েট্টা উপত্যকা খনন করে প্রাপ্ত শিলমোেহর থেকে প্রমাণ করেন সিন্ধু সভ্যতার সময়সীমা ২০০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ । ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক ডি পি আগরওয়াল বলেন যে সিন্ধু সভ্যতার সময়সীমা হল ২৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ । হুইলার, সি জে গ্যাড এবং ব্যাসামের মতে ২৫০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে ।

সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান:

হরপ্পা: সিন্ধু সভ্যতার প্রথম আবিষ্কৃত স্থানটি হল হরপ্পা । হরপ্পা পাঞ্জাবের মন্টোগােমারী জেলায় রাভি নদীর তীরে অবস্থিত । ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে দয়ারাম সাহানি হরপ্পা আবিষ্কার করেন । এর পরে সিন্ধু সভ্যতার নাম হল হরপ্পা সভ্যতা । হরপ্পা প্রথমে পর্যবেক্ষণ করেন ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে ম্যাসন । ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে এম এস ভেটস খনন কার্য চালান । বার ইউনিট শস্যাগার, কফিন সমাধি, তামার ইক্কা, তলােয়ার, পাথরের নর্তকী মূর্তি, লিঙ্গ, যােনি এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শিলমােহর পাওয়া গেছে । হরপ্পা ছিল প্রধান নৌকা তৈরির কেন্দ্র । হরপ্পার চারদিক ছিল সিটাডেল দ্বারা পরিবেষ্টিত ।

মহেঞ্জোদরাে: সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম কেন্দ্র হল মহেঞ্জোদরাে । লাহােরের লারকানা অঞ্চলে সিন্ধু নদীর তীরে এটি অবস্থিত । মহেঞ্জোদরাে কথার অর্থ হল "মৃতের স্তুপ' ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় । এর জনসংখ্যা ছিল ৪১ থেকে ৪৫ হাজারের মধ্যে ।


লােথাল: লােথাল বিশ্বের প্রাচীনতম পােতাশ্রয় । লােথাল অবস্থিত ছিল বর্তমান গুজরাটের আমেদাবাদ অঞ্চলের সারাঙ্গা জেলায় । আর রাও লােথাল আবিষ্কার করেন । এর চারদিক উঁচু প্রাচীর ছিল মূলত বন্যা প্রতিরােধের জন্য । ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এখানে প্রথম ধানের চাষ হয় । লােথাল মূলত শেলের অলঙ্কার এবং পুঁথির অলঙ্কারের জন্য প্রসিদ্ধ । এখানে আগুনের বেদী, টেরাকোটার ঘােড়া, পার্শিয়ান শিলমােহর, তুষ, মাছ ও পাখি চিত্রিত বাসনপত্র, হরপ্পার শিলমােহর, জোড়া কবর এবং কাপড়ের টুকরাে পাওয়া গেছে ।

কালিবঙ্গান: কালিবঙ্গান ছিল বর্তমান রাজস্থানের গঙ্গানগরের হনুমানগড়ে । কালিবান আবিষ্কার করেন এ ঘােষ । এখানে আয়তাকার কবর, আইভরি নির্মিত চিরুনি, তামার বালা, কাঠের ঠেলাগাড়ি, কাঠের লাঙল, লিঙ্গ ও যােনি এবং তামার ষাঁড় পাওয়া গেছে । এছাড়া চানহুদারাে, সুক্তাজেন্দোর, বনওয়ালি, রংপুর, সুরকোডা, কোটদিজি, রােপার, আলমগীরপুর, আলমুরাদ, বােলাভীরা, বালাকোট, দেশালপুর, আলহাদিনাে এবং রাখিগ্রহী ইত্যাদি ।

সিন্ধু অধিবাসীদের রাজনৈতিক জীবন:

সিন্ধু নগরগুলিতে কি ধরনের শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল এ সম্পর্কে কোনাে প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি । তবে ধ্বংসাবশেষ ও জনসাধারণের জীবনযাত্রা লক্ষ করে পণ্ডিতেরা কয়েকটি অনুমান করেন । কোনাে কোনাে ইউরােপীয় গবেষক মনে করেন যে, হরপ্পার নগর দুর্গে একজন শাসক বা রাজা বাস করতেন । দুর্গের সংলগ্ন শস্যাগার তার ধন-সম্পদের পরিচয় দেয় । সিন্ধুর নগরে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি ও তার সহায়করূপে এক বিরাট আমলাতন্ত্র ছিল, তা রাজতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র যাই হােক না কেন । তা না হলে শহরের পথ-ঘাট, বাড়ি-ঘর পয়ঃপ্রণালী, ওজন-মান এত উন্নত হত না । হরপ্পা সভ্যতার এক প্রধান বৈশিষ্ট্য তার এককেন্দ্রিকতা । মহেঞ্জোদরাে হােক, বা হরপ্পা তােক সর্বত্রই এক ধরনের জিনিস পাওয়া গেছে । এক শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনযন্ত্র ছাড়া বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব হত না । কেউ কেউ বলেন যে, সিন্ধুর শহরগুলিতে বণিক সমাজের দ্বারা পরিচালিত প্রজাতান্ত্রিক শাসন প্রচলিত ছিল । কারণ শহরের অধিকাংশ অধিবাসী ছিল স্বচ্ছল ব্যাবসায়ী । তাঁরাই এই প্রজাতন্ত্র পরিচালনা করত । অনেকে এই মত অগ্রাহ্য করে যুক্তি দেখান যে, সিন্ধুর শহরগুলি ছাঁচে-ঢালা পরিকল্পনা, একই ধরনের রাস্তাঘাট এবং একই ধরনের ওজন ও মাপ একথা প্রমাণ করে যে, সিন্ধুর শহরগুলির ওপর একটি কেন্দ্রীভূত স্বৈরাচারী শাসন ছিল । মাটিমার হুইলার মনে করেন যে, সিন্ধু অঞ্চল ছিল একটি সাম্রাজ্য এবং এর কেন্দ্রে ছিল পুরােহিত রাজা ।

সমাজজীবন:

সমাজ সংগঠন ও শ্রেণি বৈষম্য: সিন্ধু সংস্কৃতির নগরগুলিতে সমাজে শ্রেণি বৈষম্য ছিল । ইতিহাসবিদ দামােদর ধর্মানন্দ কোশাম্বীর মতে

(১) প্রভাবশালী পুরােহিত ও শাসকগােষ্ঠী

(২) বেতনভুক যােদ্ধা সম্প্রদায়

(৩) বণিক, কারিগর ও ভূস্বামীদের দল এবং

(৪) চাষি, দরিদ্র শ্রমিক, ভৃত্য ও দাস

এই চার শ্রেণির মানুষ নিয়ে গড়ে উঠেছিল হরপ্পা সভ্যতার সমাজ । বৃহৎ প্রাসাদ, দুর্গ এবং ক্ষুদ্র দু’কামরা ঘর ধনী-দরিদ্রের শ্রেণি বৈষম্যের প্রমাণ দেয় । শুধু ছােট বড় বাড়ির তারতম্যে নয়, কবরগুলির তারতম্যেও শ্রেণি বৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া যায় । এমনকী সিন্ধুর নগরগুলিতে ক্রীতদাসও ছিল বলে মনে করা হয় । দু'কামরার ব্যারাক ঘরে বসবাসকারী ক্রীতদাসকে গােলাঘরের কাজের জন্য নিয়ােগ করা হত ।


পৌর ব্যবস্থা: সিন্ধুর নগরগুলি বিন্যাস এবং নগর ব্যবস্থার সংগঠন লক্ষ করে ঐতিহাসিকরা অনুমান করেছেন, এই নগরগুলির পৌর ব্যবস্থা বেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল । পৌর ব্যবস্থা মজবুত না হলে পয়ঃপ্রণালীগুলি চালু রাখা, রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার রাখা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ি-ঘর তৈরি করা সম্ভব হত না । স্টুয়ার্ট পিগটের মতে, হরপ্পা সভ্যতা যেরূপ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে ছিল, তার পরিচালনার জন্য হরপ্পা ও মহেঞ্জোদরােতে দুটি রাজধানী বা শাসনকেন্দ্র স্থাপন করা হয় । তবে রাজা বা শাসক হয়ত একজনই ছিল তার কারণ দুটি শহরের একই প্রকার পরিকল্পনা ও পরিচালনার প্রণালী দেখা যায় । মহেঞ্জোদরাে ও হরপ্পার শেষের দিকে এই পৌর ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে । মহেঞ্জোদরােতে শহরের ৯ টি স্তর পাওয়া যায় ।

জীবিকা: সিন্ধুর অধিবাসীদের জীবিকা ছিল কৃষি, শিল্প এবং বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল । যে সভ্যতা মহেঞ্জোদরাে ও হরপ্পার মত সমৃদ্ধ শহর সৃষ্টি করেছে সেই সভ্যতার কৃষি অর্থনীতি অবশ্যই উন্নত ছিল । কৃষি অর্থনীতির বিকাশ না হলে নাগরিক সভ্যতার উদ্ভব হয় না । নগরে কৃষি উৎপাদন হয় না, সেখানে প্রধানত শিল্প ও ব্যাবসা-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম হয় । মহেঞ্জোদরাে ও হরপ্পার মত শহরগুলির উন্নতির মূল কারণ সিন্ধু উপত্যকায় কৃষির উন্নতি । সিন্ধু উপত্যকার জমিও ছিল কৃষির বিকাশের অনুকূল । 


খাদ্য: সিন্ধুর অধিবাসীদের খাদ্য ছিল গম, যব, ভাত, তরি-তরকারি, কড়াইশুটি, বাদাম, খেজুর প্রভৃতি । সিন্ধুর গ্রামাঞ্চলে এই খাদ্য দ্রব্যগুলাে উৎপাদন হত । সিন্ধু অঞ্চলে ধানের চাষ হত । লােথাল ও রংপুরে ধানের তুষ পাওয়া গেছে । আমিষ খাদ্য হিসাবে লােকে ভেড়ার মাংস, শুকরের মাংস, পাখির মাংস এবং মাছ প্রভৃতি খেত ।

পশুপালন: পশুপালন ছিল সিন্ধুর অধিবাসীদের অপর উল্লেখযােগ্য জীবিকা । সিন্ধুর অধিবাসীরা ভেড়া, মহিষ ও কুঁজওয়ালা ষাঁড়, গরু, কুকুর প্রভৃতি পশুপালন করত । এছাড়া উট, বলদ, গাধা এসব পশু দিয়ে মাল বহনের কাজ করত ।


পােশাক: সিন্ধু অঞ্চলে সুতি বস্ত্রের উৎপাদন ব্যাপক থাকায় তুলার চাষ ছিল বিখ্যাত । সিন্ধুর শহরগুলিতে বস্ত্রবয়ন একটি বড় শিল্প ছিল । মহেঞ্জোদরাের বিভিন্ন বাড়ি থেকে সুতাে কাটার যন্ত্র পাওয়া গেছে । সিন্ধুর শহরগুলি থেকে সুতি বস্ত্র পশ্চিম এশিয়ায় রপ্তানি হত । মেসসাপটেমিয়ার উষ্ময় সিন্ধুর শিলমােহর লাগান কাপড়ের গাঁট আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে একথা প্রমাণিত হয় । সিন্ধু অধিবাসীরা পশমের পােকও ব্যবহার করত বলে জানা যায় । নারীরাও দুই প্রস্থ পােষাক ব্যবহার করত । নারীরা নানাবিধ অলঙ্কার পরত । কানে, হাতে, গলায় এই অলঙ্কার পড়ত । সােনা, রূপা এবং দামি পাথর থেকে এই অলঙ্কার তৈরি করা হত । গহনাগুলির পালিশ ছিল খুব উৎকৃষ্ট । নারীরা নানা ছাঁচে কবরী বাঁধত এবং সুগন্ধি দ্রব্যের দ্বারা প্রসাধন করত । চোখে সুরমা লাগাত । হরপ্পা সংস্কৃতিতে বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত বণিক শ্রেণির লােকেরা ফলে এই ধরনের বিলাসিতা করত । সিন্ধু অধিবাসীদের পােষাকের নিদর্শন হরপ্পায় পাওয়া | একটি অতি ক্ষুদ্র মূর্তি থেকে অনুমান করা হয় । এই মূর্তির নিম্ন অঙ্গে ছিল ধুতির মত কাপড় এবং ঊর্ধ্ব অঙ্গে ছিল একটি চাদর । 

সংস্কৃতি: সিন্ধু সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এই সংস্কৃতির ভৌগােলিক পরিমণ্ডল সুদূর বিস্তৃত ছিল । এর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই রকমের বেশ কিছু পাথর ও ধাতুর দ্রব্যাদি পাওয়া গেছে । এ থেকে অনুমান করা সঙ্গত যে, বিশেষ বিশেষ জিনিস বিশেষ বিশেষ কারখানায় তৈরি করা হত । পরে সেগুলি উৎপাদন স্থল থেকে বিভিন্ন নগর, শহর, গ্রামে চালান যেত । যেমন উজ্জ্বল পাথরের তৈরি ধারাল ব্লেড প্রধানত রােড়ি ও সুকুর অঞ্চলে তৈরি হত কিন্তু পরে তা অন্যত্র পাঠানাে হত । এ থেকে অনুমান করা হয়, নগর পরিকল্পনার মতই কারিগরি শিল্পের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর ছিল । হরপ্পা সংস্কৃতির শিল্পবােধ খুব উন্নত মানের ছিল না । আবাস গৃহগুলির স্থাপত্য এমনভাবে তৈরি করা হয় যার ফলে গৃহগুলিতে লােকের থাকার সুবিধা হয় । হরপ্পার ষাঁড়গুলির মূর্তি বেশ শিল্পবােধ-সম্পন্ন । হরপ্পায় পাখি টানা রথের খেলনা পাওয়া গেছে । এতে কিছুটা কল্পনার মিশ্রণ দেখা যায় ।


ধর্ম বিশ্বাস: সিন্ধু সভ্যতায় নিম্নলিখিত দেবদেবীর পূজা হত-

(১) মাতৃমূর্তি: সিন্ধু সভ্যতার কেন্দ্রগুলি থেকে অসংখ্য নারীমূর্তি আবিষ্কৃত হওয়ায় ঐতিহাসিকদের অনুমান সে সময়ে, এখানে মাতৃদেবীর পূজা খুব জনপ্রিয় ছিল । কোনাে কোনাে মূর্তির গায়ে ধোঁয়ার স্পষ্ট চিহ্ন দেখে মনে হয়, দেবীকে প্রসন্ন করতে আধিবাসীরা ধূপ ও প্রদীপ জ্বালাত । শুধু তাই নয়, শিলমােহরে উৎকীর্ণ প্রতিকৃতি থেকে মনে হয় দেবদেবীর কাছ থেকে বরলাভের আশায় তারা জীবজন্তু এমনকী নরবলিও দেওয়া হত ।

(২) শিবসদৃশ দেবতার অস্তিত্ব: হরপ্পায় একটি শিলমােহরে| পশুবেষ্টিত পদ্মাসনে উপবিষ্ট, তিন মুখ ও তিনটি শিং বিশিষ্ট একটি দেবমূর্তি পাওয়া গেছে । জন মার্শাল হিন্দু দেবতা পশুপতি শিবের সঙ্গে এই দেবতার অনেক মিল খুঁজে পেয়েছেন । তবে এই দেবতার পশুবেষ্টনীতে ষাঁড় না থাকায় ব্যাসাম থেকে সরাসরি শিব না বলে আদি শিব বলে মনে করেছেন ।

(৩) লিঙ্গ ও যােনি পূজা: লিঙ্গ ও যােনির আকৃতিবিশিষ্ট বেশ কিছু পাথরের বস্তু এখানে আবিষ্কৃত হয়েছে, যা থেকে কোনাে কোনাে ঐতিহাসিকের অনুমান হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা লিঙ্গ ও যােনি পূজা করত ।

(৪) দেবতা জ্ঞানে অন্যান্য বস্তুর পূজা: অন্যান্য যেসব বস্তু । দেবতাজ্ঞানে পূজিত হত তার মধ্যে ছিল জল, আগুন, গাছ এবং বিভিন্ন জীবজন্তু । সম্ভবত সূর্য, স্বস্তিক চিহ্ন, চক্র চিহ্ন ইত্যাদিকে পবিত্র বলে মনে করা হত ।

শস্যাগার: হরপ্পায় একটি শস্যাগার আবিষ্কৃত হয়েছে । এই শস্যাগারটি হল লম্বায় ১৬৯ ফিট এবং চওড়ায় ১৩৫ ফিট (মতান্তরে ১৫০x২০০ ফিট ) ।বন্যার জল যাতে এই শস্যাগারটির কোনাে ক্ষতি করতে না পারে । সেজন্য পােড়ামাটির উঁচু ভিতের ওপর এই শস্যাগারটি তৈরি করা হয় । শস্যাগারটি কয়েকটি পৃথক পৃথক কক্ষে ভাগ করা ছিল । শস্যাগারের পাশেই উঁচু বাঁধান চাতাল । এখানে শ্রমিকরা শস্য ঝাড়াই-মাড়াই করত । শস্যাগারের পাশেই ছিল ২ কামরা-যুক্ত শ্রমিকদের আবাসের কেন্দ্র । মােট ১৪ টি ছােট ছােট দালানের একটি ব্লক লক্ষ করা যায় । কোনাে কোনাে পণ্ডিত মনে করেন যে, শ্রমিকদের এই শস্যাগারের কাজে নিযুক্ত করা হত । অধ্যাপক ব্যাসাম এই শস্যাগারটিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কের সঙ্গে তুলনা করেছেন । তিনি মনে করেন, এই রকম শস্যাগার মহেঞ্জোদরােতেও ছিল ।


সভাগৃহ: মহেঞ্জোদরােতে ৮৫×৯৭ ফিট একটি বিরাট দালানের ভগ্নাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে । চতুষ্কোণ স্তম্ভবিশিষ্ট বিরাট কক্ষযুক্ত একটি দালানের ভগ্নাবশেষও আবিষ্কৃত হয়েছে । এটিকে সভাগৃহ বলা হত ।


স্নানাগার: মহেঞ্জোদরােতে একটি বৃহৎ স্নানাগার আবিষ্কৃত হয়েছে । এই স্নানাগারকে সিন্ধু সভ্যতার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলা যায় । এই স্নানাগারের বাইরের দিকের মাপ ছিল ১৮০x১০৮ ফিট । স্নান করবার জলাধারটির মাপ ছিল ৩৯x২৩ ফিট এবং গভীরতা ৮ ফিট । জলাধারটিতে জল ঢােকাবার ও বের করবার ব্যবস্থা ছিল । এর একপাশে বসবার জন্য মঞ্চ ছিল । জলাধারের অন্য তিন পাশে বারান্দা এবং তার পাশে ছােট ছােট ঘর ছিল । মার্টিমার হুইলারের মতে, এই স্নানাগারটি একটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নির্মিত হয় । পূজার্থীরা স্নান সেরে ছােট কক্ষে পােষাক পরত এবং স্নানাগার-সংলগ্ন মাতৃদেবতার মন্দিরে পুজো দিত ।

পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা: শিল্প নগরগুলির বাসগৃহের জল-নিকাশী ব্যবস্থা ছিল খুবই উন্নত । প্রতি বাড়ির জল বের হওয়ার জন্য পােড়ামাটির ইটের তৈরি নালী ছিল । এই নালী পথে জল নির্গত হয়ে রাস্তার পয়ঃপ্রণালীতে পড়ত । রাস্তার পাশে গর্ত করে নর্দমা তৈরি করা হত । এই নর্দমা পাথরের ঢাকনা দ্বারা চাপা দেওয়া থাকত । জলের দ্বারা বাহিত আবর্জনাকে আটকাবার জন্য মাঝে মাঝে বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা করা ছিল । এগুলিতে নীচে নামার সিঁড়ি দেখে অনুমান হয় যে, এগুলি পরিষ্কার করার জন্য নাগরিক বন্দোবস্ত ছিল । নালীগুলি নিয়মিত পরিষ্কারের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে ।


সিন্ধু সভ্যতায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: সিন্ধু সভ্যতায় মৃতদেহের সৎকার করা হত প্রধানত সমাধিপ্রথায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের দ্বারা প্রায় ৫৭ টি সমাধিক্ষেত্রের চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে । বিভিন্নভাবে মৃতদেহ সমাধিস্থ করা হত । এ বিষয়ে তিন ধরনের পদ্ধতির নিদর্শন পাওয়া গেছে-

(১) প্রথম পদ্ধতি অনুযায়ী মৃতদেহের সঙ্গে তার ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী, যেমন- আসবাবপত্র, গয়না, পাত্র ইত্যাদিও সমাধিস্থ করা হত । একে বলা যায় সম্পূর্ণ সমাধি ।

(২) কেবলমাত্র মৃতদেহটিকে সমাধিস্থ করা হত ।

(৩) মৃতদেহ ভস্মীভূত করে সেই ভস্ম একটি আধারে ভরে, আধারটিকে সমাধিস্থ করা হত । মৃতদেহকে সাধারণত সমাধিস্থানের উত্তর থেকে দক্ষিণে শায়িত করার নিয়ম ছিল । লােথালে কয়েকটি যুগ্ম সমাধি, অর্থাৎ পাশাপাশি দুইটি কঙ্কাল শায়িত রয়েছে এমন সমাধির সন্ধান পাওয়া গেছে ।

অর্থনৈতিক জীবন:

বাণিজ্য: সিন্ধু উপত্যকায় যে উন্নতি ও আরামপ্রদ নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তার মূলে ছিল বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি । সিন্ধুর অধিবাসীদের অপর জীবিকা ছিল বাণিজ্য । এই বাণিজ্য প্রতিবেশী অঞ্চলের সঙ্গে চলত । ভারতের বাইরে পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে সুমার বা মেসােপটেমিয়ায় বেশির ভাগ বাণিজ্য চলত । এছাড়া মিশর ও তুর্কিস্তানের সঙ্গে যথাক্রমে জলভাগে ও স্থলভাগে বাণিজ্যিক যােগ ছিল বলে মনে করা হয় । মেসােপটেমিয়ার প্রাচীন লেখ থেকে সে দেশের সঙ্গে তিনটি বিদেশি অঞ্চলের দূরপাল্লার বাণিজ্যের উল্লেখ করা হয়েছে । সেই তিনটি বিদেশি অঞ্চল হল- দিলমুন, ম্যাগান ও মেলুহা । হরপ্পার নগরগুলি থেকে হাতির | দাঁতের তৈরি জিনিস, কাপড়, মণি-মুক্তা, ময়ূর, ময়ূরপুচ্ছ প্রভৃতি রপ্তানি হত । সমুদ্রপথে এই বাণিজ্য চলত । জলপথে মিশর, সুমেরিয় এবং স্থলপথে ভারতের মহীশূর, গুজরাট, কাশ্মীর, দক্ষিণের নীলগিরি পর্যন্ত সিন্ধুর শহরগুলির বাণিজ্য চলত । ব্যাবসা-বাণিজ্যে সম্ভবত বিনিময়-প্রথা প্রচলিত ছিল ।


শিল্প ও কারিগর:

 ধাতু শিল্প: সিন্ধুর শহরগুলিতে গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি দেখে বােঝা যায়, শহরের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল | শিল্প ও কারিগর শ্রেণির লােক । পাথর দিয়ে নানা ধরনের হাতিয়ার তৈরি হত । এইসব হাতিয়ারগুলির মধ্যে উজ্জ্বল পাথরে তৈরি ধারাল ব্লেড বিশেষ উল্লেখযােগ্য । ধাতুর মধ্যে তামার ব্যবহার ছিল সবচেয়ে বেশি । সিন্ধুর শহরগুলিতে কোনাে লােহার তৈরি জিনিস পাওয়া যায়নি । যন্ত্রপাতিগুলি ছিল তামা বা ব্রোঞ্জের তৈরি । রাজস্থান ও দক্ষিণ ভারত থেকে তামা আমদানি হত । দামি পাথর গুজরাট ও রাজপুতানা থেকে আনা হত । ধাতুশিল্প ও পাথর খােদাই ছিল সিন্ধু শহরের অন্যতম শিল্প । ধাতু থেকে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য কাস্তে, কুঠার, বর্শা, তির-ধনুক, বঁড়শি, বাটখারা, সূচ, চিরুনি প্রভৃতি তৈরি করা হত । সােনা ও রূপার অলঙ্কার তৈরি করা হত । পাথর কেটে অলঙ্কার, গলার হার তৈরি করা হত । জেড, কার্নেলিয়ন, লাপিস লাজুলি ও এ্যাগেটের মতাে দামি পাথর দিয়ে শৌখিন জিনিস ও পুঁতি তৈরি হত । পাথর দিয়ে নানা ভঙ্গিমায় মূর্তিও তৈরি হত । সিন্ধু উপত্যকায় ইট শিল্প সমৃদ্ধ ছিল । কাদামাটির ইট ও চুল্লিতে পােড়ানাে ইট দু'ধরনের ইটই তৈরি হত । সিন্ধুবাসীরা যে কাঠের চেয়ার, চৌকি ও টুল ব্যবহার করত তার প্রমাণ পাওয়া যায় । নৌকো তৈরির নিদর্শনও পাওয়া গেছে ।


মৃৎশিল্প: সিন্ধু নগরে মৃৎশিল্পের বিশেষ বিকাশ ঘটেছিল । মাটির কলসি, জালা, থালা, বাটি ও খেলনা তৈরি হত । মৃৎশিল্পীরা পলিমাটি, বালি ও চুনের গুঁড়াে মেশানাে মণ্ড দিয়ে সরল মৃৎপাত্র তৈরি করত । তৈরি দ্রব্যগুলিকে আগুনে পুড়িয়ে মজবুত করা হত । পরে এতে রং লাগান হত । লাল পােড়ামাটির পাত্রের গায়ে কালাে রং লাগাবার বিশেষ চলন ছিল । কাচের মত চকচকে ও মসৃণ চিনামাটির পাত্র নির্মাণ হরপ্পা সংস্কৃতির মৃৎশিল্পীদের একটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল । এছাড়া পােড়ামাটির মূর্তি খােদাই করা থাকত । মহেঞ্জোদরাের শিলার ওপর খােদাই করা ষাঁড়টির মূর্তি অতি প্রাণবন্ত । অনেকে মনে করেন যে, সাধারণ দরিদ্র লােকেরা জীবিকা হিসাবে পােড়ামাটির কাজকে বেছে নেয় । পােড়ামাটির তৈরি নর্তকীর মূর্তি সিন্ধু শিল্পীর দক্ষতার পরিচয় দেয় । পােড়ামাটির তৈরি নর্তকী ও মনুষ্য মূর্তিগুলি নগ্নপাত্র । তবে দেহে অলঙ্কার কম ছিল । কিছু কিছু মূর্তিতে সামাজিক জীবনের প্রতিচ্ছবিও দেখা যায় । স্তন্যদানরত মা বা হামাগুড়ি দেওয়া শিশুর মূর্তি এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় । হরপ্পার মূর্তিগুলি মহেঞ্জোদরের মূর্তি অপেক্ষা পরিণত । হরপ্পায় বাঘ, গণ্ডার, পাখি, মনুষ্য মূর্তির, মাটির তৈরি আরামকেদারার খেলনা তৈরি করা হত ।

পরিবহণ ব্যবস্থা: সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির দিকে নজর দিয়েছিল । ব্যাবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিবহণ স্থলপথ ও জলপথে পরিচালিত হত । বহির্বাণিজ্যের বেশির ভাগই চলত সমুদ্রপথে, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরে উপকূলে । লােথাল থেকে একটি পােড়ামাটির জাহাজের মডেল আবিষ্কৃত হয়েছে । মেসােপটেমিয়া তথ্যেও মেলুহা অর্থাৎ সিন্ধু উপত্যকায় সমুদ্রগামী । জলযানের উল্লেখ আছে । সুতরাং বলা যায় সমুদ্রপথ বা নদীপথে জাহাজ, নৌকা চলত । দেশের ভিতর স্থলপথে ব্যাবসা-বাণিজ্যের জন্য দু'চাকা বিশিষ্ট এক্কা জাতীয় গাড়ির ব্যবহার হত । পােড়ামাটি ও ধাতুর তৈরি এ ধরনের গাড়ির অনেক মডেল আবিষ্কৃত হয়েছে ।


সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসের কারণ


১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়:


বন্যা: ইতিহাসবিদদের অনুমান বন্যা সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতার পতন ঘটায় । লােথাল, বুধঠার, দেশালপার, রংপুর অঞ্চলগুলি বন্যার তাণ্ডবে ধ্বংস হয়েছিল । এ প্রসঙ্গে এম আর সাহানি বলেছেন, ‘প্লাবন সিন্ধু সংস্কৃতিকে ভাসিয়ে দেয় ।


ভূমিকম্প: বহু ইতিহাসবিদ ভূকম্পনকে মহেনজোদারাের পতনের | কারণ বলে মনে করেছেন । গবেষণা চালিয়েও দূর অতীতে মহেনজোদারাের কাছে একটি ভয়ংকর ভূকম্পন কেন্দ্রের উৎস থাকার কথা বলা হয়েছে ।

সিন্ধু ও অন্যান্য নদীর গতিপথ পরিবর্তন : কোনাে কোনাে ইতিহাসবিদের মতে সিন্ধু, শতদ্রু ও যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং জলের অভাবে ঘর্ঘরা, দৃদ্বতী ও সরস্বতী নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে | কৃষি ও ব্যাবসাবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় । তাই মহেনজোদারাে ও কালিবঙ্গান প্রভৃতি অঞ্চল ধ্বংস হয় ।


জলবায়ুর পরিবর্তন: নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে বৃষ্টিপাত উল্লেখযােগ্যভাবে কমে যায়, ফলে মরুভূমির সম্প্রসারণ ঘটে ও জমিতে লবণতার হার বৃদ্ধি পায় ।


২. রক্ষণশীল মানসিকতা:

হরপ্পাবাসীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরাতন | ব্যবস্থাকে অবলম্বন করে জীবন কাটাতেই বেশি আগ্রহী ছিল । কৃষিব্যবস্থা বা নিরাপত্তারক্ষা, সবক্ষেত্রেই তাদের এই রক্ষণশীল মনােভাব উন্নয়নকে | স্তব্ধ করে দেয় ও সভ্যতাকে পতনােন্মুখ করে তােলে ।


৩. বহিরাক্রমণ: 

অনেকে মনে করেন, বহিরাগত শত্রু (আর্য) -র আক্রমণের ফলেই সিন্ধু সভ্যতার পতন ঘটেছিল । এখানকার ধ্বংসস্তুপ থেকে প্রাপ্ত মৃতদেহের কঙ্কালে ভারী বস্তুর আঘাতের চিহ্ন দেখে এই অনুমান করা হয় ।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area